স্টাফ রিপোর্টার ::
নিজেদের টাকায় সরকারি বেহাল সড়ক সংস্কার করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরস্থ বিএডিসি, ত্রাণ অফিস, পাসপোর্ট অফিস ও সমাজসেবা অফিসে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা সংস্কার করেছেন। তারা সরকারের বিভিন্ন দফতরে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা তদবির করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে নিজ উদ্যোগে কাজটি করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাংলাদেশ কৃষি করপোরেশন (বিএডিসি) মালিকানাধীন বীজ ও সার গোডাউনের ইটসলিংয়ের সড়কটি জেলা পরিষদের সামন থেকে চলাচলের অনুপযোগী। প্রায় ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই সড়কটি দিয়ে স্থানীয় একটি অটোরাইসমিল, বিএডিসির সার ও বীজের বিশাল ট্রাক নিত্য লোড নিয়ে যাতায়াত করে। গত কয়েক বছর ধরে এই সড়কের পাশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়, সমাজসেবা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
সমাজসেবা ভবনে জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তার কার্যালয় রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন অটিস্টিক শিশু ও বৃদ্ধরা থেরাপিসহ নানা ধরনের সেবা নিতে এসে এই সড়ক দিয়ে চলাচলে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া প্রতিদিন সরকারি অফিসগুলোতে হাজারো মানুষ সেবা নিতে এসে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এই পাড়ায় অন্তত ২০টি বাসাবাড়ি ও ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়কটির জীর্ণ অবস্থার কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্চ মাসে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাসপোর্ট অফিস, ত্রাণ অফিস, সমাজসেবা অফিসের সামনে হাঁটুপানি জমা হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধ ইটসলিংয়ের সড়ক দিয়ে ভারী ট্রাক নিয়মিত যাতায়াত করায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে স্থানীয়দের চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় তারা চাঁদা তুলে ইটের খোয়া, বালু ও কংক্রিট এনে সড়কটিতে ফেলে দিয়ে সাময়িক চলাফেরার ব্যবস্থা করেছেন। তবে সংস্কারে সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমদ বলেন, আমরা এলাকাবাসী প্রায় লাখ টাকা খরচ করে সড়কটি সাময়িক সংস্কার করেছি। সরকারিভাবে সড়কটি সংস্কার করা দরকার। তিনি বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস হওয়ার পরও কেউ দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করছেন না। এতে প্রতিদিন সেবাপ্রার্থী হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা ডা. তানজিল আহমদ বলেন, আমার কার্যালয়ে প্রতিদিন অসুস্থ বয়স্ক মানুষ ও প্রতিবন্ধী শিশুরা আসে। তারা থেরাপি দিতে এসে ভাঙা রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরেছি।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র (সার) উপসহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের মালিকানাধীন এই সড়কটি পৌরসভাকে হস্তান্তরের জন্য লিখেছি। বর্তমানে বেহাল সড়কে চলাফেরা কঠিন। তাই স্থানীয়রা চাঁদা তুলে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। আমরাও সহযোগিতা করেছি কিছু।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী
- আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৫৩:১২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ